পূর্ব শত্রুতায় পিতাপুত্রের হাতে এক যুবক খুন,আসামীরা পলাতক

রোকন বিশ্বাস(ক্রাইম রিপোর্ট)-বিশেষ প্রতিনিধিঃ পূর্ব বিরোধের জেরে পাবনা পৌর সদর উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ড শালগাড়ীয়া তালবাগান এলাকার আবুল হোসেনের মেঝ পুত্র আবুল কাশেম(২৮) নামের এক যুবক খুন।নিহত আবুল কাশেম পাবনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এ চাকরি করতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শালগাড়িয়ার তালবাগান খাদিজাতুল কুবরা জামে মসজিদের জালসায় আবুল কাশেমের সঙ্গে একই এলাকার সুলতান অরফে লাড্ডুর ছেলে সামির(১৮) মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছিলো।এমন সময় আবুল কাশেমের চোখে পরলে তিনি মেয়েদের খারাপ কথা বলতে নিষেধ করেন।সামির আবুল কাশেমকে বলে আমি আপনার বোনকে কি খারাপ কথা বলছি যে আমাকে নিষেধ করেন?সামিরকে নিষেধ করার সত্ত্বেও আবারো নারীদের প্রকাশ্যেই উত্ত্যক্ত শুরু করে,এভাবেই চলতে থাকে নারীদের উত্ত্যক্ত করা সামিরের,এ দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন তার নিত্যদিনের রুটিন।সামিরকে নিষেধ করার কারণে চড়াও হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দলবল নিয়ে আবুল কাশেমকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে চলে যায়।এ ব্যাপারে নিহত আবুল কাশেম নিজের বাড়িতে এবং সামিরের বাড়ীতে কিছুই জানায় না শুধু বলছে আমাকে মারলি আমিও পরে দেখবো।এমন কথার উপর ভিত্তি করে ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ (রবিবার)বিকালে আবুল কাশেম তার বাড়ি থেকে সামিরের বাড়ির পাশে গেলে সামিরের বাবা সুলতান ওরফে লাড্ডুর দেখা পায়।লাড্ডু তাকে রাস্তায় ঠেকিয়ে বলে তুই না কি আমার ছেলেকে মারবি এমন কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে চাকু এনে আবুল কাশেমকে আঘাত করে,এসময় সামির ও তার বাবা লাড্ডু আবুল কাশেমকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে কিন্তু নিহত আবুল কাশেম নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য রাস্তা দিয়ে দৌড় দিয়েও রক্ষা পায় না।কিছুটা দৌড়ালে রক্ত মাখা শরীরে ঢলে পরে রাস্তার উপরে বালি মাটিতে।পরে যাওয়া অবস্থায় আবারো চাকু দিয়ে আঘাত করে জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে নিয়ে আসে মৃত্যু পর্যন্ত।শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকু মারার চিহ্ন পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য স্থানে মারাত্মক মরণ চিহ্নর দেখা মেলে বুকের উপরে,পেটের উপরে ও কিডনির উপরে।এই সকল স্থানে চাকু মারার পরে মৃত্যু নিশ্চিত হবে বলে মনে এলাকাবাসী।ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল কাশেমকে মৃত ঘোষণা করেন।এলাকাবাসীর মতে উশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করা,মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে সামিরের বিরুদ্ধে৷ তার বাবা সুলতান ওরফে লাড্ডু এলাকার মাস্তান বলে জানান তারা।কারো সাথে একটু কথা কাটাকাটি হলেই হাসুয়া,চাকু দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখান কিন্তু এবার আর ভয় নয় আবুল কাশেমকে সরাসরি মৃত্যুর দোয়ারে ফেলে দিলো ঘাতক ছেলে সামির ও তার ঘাতক বাবা সুলতান ওরফে লাড্ডু। মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা এটা নরপিশাচের চেয়েও ভয়ংকর বলে মনে করেন স্থানীয়রা।হত্যাকান্ড ঘটার সাথে সাথেই পালিয়েছে এই ঘাতকেরা।পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Comments

Popular posts from this blog

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রাচীনতম আইন কলেজটির ভঙ্গুর পরিদর্শন এসে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আশ্বাস

পাবনা আটঘরিয়া মতিঝিল উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার উদ্বোধন

চাটমোহরে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে মশাল মিছিল